শোজা বাংলা কী?

  লিখেছেন  

  তারিখে।

আগেই জানাইয়া রাখি, এই ল্যাখা পর্‌তে ‘শিক্‌খিতো’ ভাই-বোন্‌গো কাছে শুরুতে এক্‌টু কোঠিন লাগ্‌তে পারে। কিন্‌তু যারা পর্‌তেই পারে না তাগো চাইয়া ‘শিক্‌খিতো’ ভাই-বোনেরা এই ল্যাখা শহোজে বানান্‌ কৈরা পর্‌তে পার্‌বে। আশোলে ম্যালাদিন ধৈরা ইশ্‌কুল-কলেজে ভুল(!) বাংলা শিখায় ভুল্‌টাই শহোজ লাগে ‘শিক্‌খিতো’ ভাই-বোন্‌গো কাছে। ইস্‌কুল-কলেজে ভুল বাংলা বানান শিখাইছে তাও না, কিন্‌তু ঐটা আমাগো মুখের ভাশা না। ইংরাজ্‌রা যে, তাগো দালাল ও কল্‌কাতার শঙোস্‌কিরিতো পোন্‌ডিত্‌গো দিয়া এই ভাশা বানাইয়া আমাগো উপর চাপাইয়া দিছে তা এইখানে bacbichar.net/2020/02/art.4658.bb গেলে পাইবেন। এইটা বানান করা কিন্‌তু শোজা, হরোফের আওয়াজের শাথে আকার-উকার দিয়া পর্‌বেন যারে ইংলিশে ফোনেটিক(Phonetic) বানান কয়। ফোনেটিক কিন্‌তু ফ্যাল্‌না কিছু না, শব ভাশার্‌ই চালু বানানের শাথে আওয়াজ মোতাবেক বানান্‌ও আছে, ভালো ডিক্‌শোনারীগুলাতে পাইবেন। আর অ্যাখোন কম্‌পিউটার/টাচ-ফোনে বাংলা লিখ্‌তে যে অভ্‌রো/রিদ্‌মিক(Avro/Ridmik) আম্‌রা চালাই তার গোরায়ও ফোনেটিক্‌স। কিন্‌তু এই অভ্‌রো/রিদ্‌মিক অটো-কারেক্‌ট(Auto-correct) নামে বার্‌তি ১টা শুবিধা(আশোলে অশুবিধা) দিয়া ফোনেটিক বাংলারে আবার কল-কাতার বাংলায় বদ্‌লাইয়া দ্যায়, কারোন আমাগো বই-পত্‌রো শেই বানানে ল্যাখা। আমি নিজে অভ্‌রোর এই অটো-কারেট অশুবিধাটা অফ কৈরা রাখ্‌ছি, তাই আমি মুখে যে আওয়াজে কথা বোলি শেইটাই এইখানে ল্যাখা হৈতেছে। তাই এইটা আশোলে কোঠিন না, হরোফের আওয়াজ মোতাবেক পৈরা যাইবেন খালি, শহোজের উপ্‌রে শহোজ, মানে ১বারে শোজা। তার্‌পর আবার এইটাই বেশি ছাইন্‌টিফিক আর ভাশার লাইনে বর্‌তোমান ফ্যাশান্‌ও এইটা। তাই ‘শোজা বাংলা’ খালি শোজাই না, দামীও আছে। আরেক্‌টু পর্‌লেই কিলিয়ার হৈয়া জাইবেন আশা কর্‌তেছি।

ইশ্‌কুল-কলেজে যে বাংলা শিখায়, শেইটা আশোলে আমাগো মায়ের-ভাষা না, এইটা বানাইছে ইংরাজ‍্‌রা তাগো দালাল আর কল্‌কাতার শঙোস্‌কিরিতো পোন্‌ডিতগো দিয়া। বিস্‌তারিতো পাইবেন রক মোনুর ‘খাশ বাংলা’ বইয়ে। শংখেপে বল্‌তে গেলে বলা যায় যে, ইংরাজ্‌রা যখোন ১৭৬০ শালের পর মীরজাফোর/মীরকাশেম্‌রে বাদ দিয়া নিজেরাই এই এলাকা শাশোন কর্‌তে শুরু কর্‌লো, তখোন শাশোনের দর্‌কারে এই এলাকার মানুশের ভাশা ব্যাবোহারের দর্‌কার পর্‌লো তাগো। তাই তারা তাগো দর্‌বারে মুন্‌শী আর পোন্‌ডিতগো চাক্‌রি দিলো। মুন্‌শী মানে আর্‌বী-ফার্‌ছী জানা আর পোন্‌ডিত হৈলো শঙোস্‌কিরিতো জানা। এইটা শুরুতে ধর্‌মের কোনো বিষয় ছিলো না। আর্‌বী-ফার্‌ছী জানা অনেক হিন্‌দুও মুন্‌শী হিশাবে কাম কর্‌ছে ইংরাজ দর্‌বারে। যাই হৌক, পোন্‌ডিতগো উপর দায়িত্‌তো পর্‌লো ‘বাংলা’ ভাশার কায়দা-কানুন বানানের, যে ভাষা আশোলে আরো আগে (ইছায়ী ১২-১৩ শতোকের দিকে) ছুলতানী আমোলেই ১টা কায়দা পাইছিলো পুরাপুরি। শেই কায়দা ভাইংগা ইংরাজ্‌রা বাংলা ভাশার নোতুন কায়দা চালু কর্‌লো ইশ্‌শর্‌চন্‌দোরো-রোবিন্‌দোনাথ্‌গো দিয়া।এই বাংলা আগেই চালু থাকা বাংলা ভাশা না, এইটা শঙোস্‌কিরিতো ভাব্‌আলা বাংলা। আগে চালু থাকা শব্‌দোগুলার বদোলে নোতুন-নোতুন বাংলা শব্‌দো পয়দা হৈতে লাগ্‌লো, যে শব্‌দোগুলার্‌ গোরা শঙোস্‌কিরিতো। শেই শব্‌দোগুলা আবার আওয়াজ মোতাবেক বানান্‌ করা হয় নাই, হৈছে শঙোস্‌কিরিতের লগে রিশ্‌তা হিশাবে। আর শব শেষে, কর্‌মোপদের ছিস্‌টেম বদ্‌-লাইয়া পুরা কায়দাটাই দ্যাওয়া হৈলো আউলাইয়া। মানে শব্‌দো, বানান আর কর্‌মোরূপ পুরা বদ্‌লাইয়া দিয়া নোতুন্‌ ১টা কায়দা চালু করা হৈলো যা পাল আমোলের বাংলা(পালী) আর ছুলতানী আমোলের বাংলা(এইটাই আদি বাংলা) থেইকা ম্যালা আলাদা, ম্যালা কোঠিন, ম্যালা কম ছাইন্‌টিফিক ও অশুন্‌দর। কিন্‌তু ২০০ বছোরের ইংরাজ শাশোনে চলা কল্‌কাতার বাংলার চাপে পৈরা, আদি বাংলার চাইয়া পুরাই আলাদা এই কোঠীন, অবৈগ্‌গানিক ও অশুন্‌দর কল্‌কাতার বাংলাই হৈয়া গ্যালো ‘সহজ-সুন্দর’ আর্‌ আগের শহোজ-শুন্‌দর বাংলা হৈয়া গ্যালো কোঠিন আর খ্যাত!

এই নোতুন ভাষা চালুর পর শবাই কিন্‌তু নোতুন নিওম মানে নাই, খোদ রোবিনদোনাথের ভাতিজা অবোনীন্‌দোনাথ ঠাকুর ‘হৃদয়’-রে ‘রিদয়’ বানানে লিখছেন। জীবনানন্‌দো পোর্‌মিতো ‘সকাল্‌’-রে ‘শকাল’, ‘সাদা’-রে ‘শাদা’ লিখ-ছেন। বানান্‌তো শাধারোন ব্যাপার্‌, মদ্‌ধো-যুগের বাংলা বই-পত্‌রে গিয়া দ্যাখেন, বর্‌তোমান বেশির ভাগ শব্‌দোই পাইবেন না শেইখানে, পাইবেন অ্যামোন শব্‌দো যা অ্যাখোন আর আমাগো বই-পত্‌রে পাওন যায়না কিন্‌তু আমাগো মুখের ভাশায় থাইকা গেছে, শব্‌দোগুলা দিয়া লাইন বান্‌ধার ছিস্‌টেম ল্যাখায় বদ্‌লাইলেও মুখের ভাশায় আগের মতোই আছে। বর্‌তোমানের বাংলা নাটোক আর আগের বাংলা ছিনেমার ডায়লগ্‌গুলা খেয়াল কৈরা শুনেন, মুখের ভাশা আর ল্যাখার ভাশা কতো আলাদা! কিন্‌তু ল্যাখার ভাশা ক্যান মুখের ভাশার মতোই হবেনা!

এইটা কিন্‌তু পোমিতো বাংলা বনাম আন্‌চোলিক বাংলার মামলা না। পোমিতো বাংলাই বল্‌তে গেলে কল্‌কাতার আন্‌চোলিক বাংলা কিছুটা। আম্‌রা যে ভাষায় লিখ্‌তেছি এইখানে, এইটা কোনো আন্‌চোলিক ভাশা না, এইটা বাংলার শব এলাকার মানুশের মুখের ভাশার আশোল কায়দা। এইটা খালি বাংলা শব্দো বানান করার মামলাও না। পোমিতো বাংলা আশোলে এই জাতীরে দাবাইয়া রাখার মাম্‌লা। ভালো কৈরা ভাবেন।

কলকাতার পোন্‌ডিতগো বানাইন্‌না পোমিতো বাংলার্‌ বিরুদ্‌ধে আর আদি বাংলার পক্‌খে ম্যালা মানুশ ম্যালা কাম-কাজ কর্‌ছেন, তবে বর্‌তোমানে হজ্‌রত রেজাউল কোরীম (রকোম শা) এইটারে অনেক খানি ছিস্‌টেমের ভিতর নিয়া আশ্‌ছেন, তার লাইনে আরো অনেকে কথা বলা শুরু কর্‌ছে। তবে তাগো শবাই পুরাপুরী রকোম শা’র লাইনে নাই, উনি নিজেও লাইন্‌টা পুরাপু্রি খারা করাইতে পারেন নাই অ্যাখোনো। তবে তারে দিয়া শুরু মাইনা অনেকের মতো আম্‌রাও এই লাইনে এক্‌টু কাজ-কাম করার কোশেশ কর্‌তেছি। উনি এই ভাশার নাম দিছেন ‘খাশ বাংলা’। কিন্‌তু অনেকের মতে এইটার নাম হওয়া দর্‌কার ‘আম বাংলা’, তিনি নিজেও এইটা নিয়া দোনা-মোনায় আছেন মনে হয়। এই জোটিলতা কমাইতে আম্‌রা তাই ভাশাটার নাম দিছি, ‘শোজা বাংলা’ আপাততো। আম্‌রা হজ্‌রত রকোম-শা’রেই গুরু মাইনা এই ‘শোজা বাংলা’ ভাশার ১টা গেরামার আর ডিক্‌শোনারী বানাইতে চাই। জানিনা কতোটা কামীয়াব হওয়া যাইবে, কিন্‌তু চেশ্‌টাতো কর্‌তে হবে। আমরা শেই কোশেশ্‌টাই শুরু কর্‌লাম। এইবার ছোটো কৈরা এই ভাশার গেরামারের বয়ান পেশ কর্‌তেছি। আশা কর্‌তেছি বুঝ্‌বেন শবাই।

শোজা বাংলার গেরামার:

এই গেরামারের ১নাম্‌বারে হৈলো বানান করা, ২নাম্‌বারে ‘শব্‌দো'(Word) বাছাই যার দর্‌কার শব্‌চাইয়া বেশী, ৩-নাম্‌বারে হৈলো শব্‌দো দিয়া লাইন বা বাক্‌কো(Sentence) গরা যা শব্‌চাইয়া শোজা কিন্‌তু বেশী কামের।

১। শোজা বাংলা বানানের জন্‌নো শুরুতে দর্‌কার হরোফ ও আ-কার/উ-কার চিনা। যারা এই ল্যাখা পর্‌তে পার্‌তেছেন তাগো কাছেতো হরোফ চিনাই আছে, খালি জানা দর্‌কার যে, ‘ঊ’ ‘ৃ’ ‘ণ’ ‘ড়’ ‘ঢ়’ এই ৫টা হরোফের দর্‌কার নাই শোজা বাংলায়। ং ও ৎ এরও কোনো দর্‌কার ছিলো না, কিন্‌তু ‘ঙ্‌’-এর্‌ বদোলে ‘ং’ ও ‘ত্‌’-এর্‌ বদোলে ‘ৎ’ ল্যাখা শোজা বৈলা এই ২টা রাইখা দ্যাওয়া হৈছে। ‘য’ আর ‘ষ’ এই ২টা হরোফেরও দরকার নাই, কিন্‌তু বিশেষ দর্‌কারে এই হরোফ ২টা রাখা হৈছে যে ব্যাপারে এক্‌টু পর বলা হবে।

‘ী’-কার বাদ না দ্যাওয়ার কারোন হৈলো, ছাইন্‌টিফিক নিওম মোতাবেক, হরোফের পরে আ-কার/উ-কার হয়, হরোফের আগে না। জ্যামোন কালু লিখ্‌তে ক-এ আ-কারে কা, ল-এ উ-কারে লু এই রকোম। কিন্‌তু ‘কালি’ লিখ্‌তে ল-এর আগে ি-কার লেইখা তার্‌পর ল লিখ্‌তে হয়। কম্‌পিউটার বা টাচ্‌-মোবাইলে ইউনিকোড্‌ ছিস্‌টেমে ল-এর পরেই ই-কার দিতে হয়, কিন্‌তু শে শেইটারে বদ্‌লাইয়া আগে আইনা দ্যায়। কিন্‌তু ‘কালী’ লিখ্‌তে গেলে এই শমোশ্‌শা নাই। আবার ‘কালি’/’কালী’ ২টার আও-য়াজই শমান। তাই ‘ি’-এর বদোলে ‘ী’ ইউজ করারে বেশি দাম দ্যাওয়া হবে শোজাবাংলায়। কিন্‌তু অ্যাখোনি ‘ি’ ইউজ করা পুরাপুরি বাদ দ্যাওয়া হবেনা। কারোন, ি’-এর বদোলে ‘ী’ দ্যাওয়া গেলেও, ে ৈ ো ৌ এই ৪টা কারের বদোলে দ্যাওয়ার মতো কোনো হরোফ নাই বর্‌তোমানে। তবে ইউনীকোড ওফীশে ঠিক মতো চাওয়া গেলে তারা এইগুলার বদোলে কিছু দিলেও দিতে পারে। আপাততো বর্‌তোমানে চালু আছে এই হরোফ দিয়াই আমাদের কাম-কাজ চালাইয়া যাইতে হবে। তাই ‘ি’-কার্‌ও চালু থাকবে। তবে আশার কথা হৈলো, লিখ্‌তে গেলে ‘ে’-কারের ব্যাবোহার অনেক থাক্‌লেও বেশীর ভাগ জায়গায়ই তার আওয়াজ হয় ‘অ্যা’-এর মতো কৈরা। জ্যামোন, ‘যেমন’ লিখ্‌তে গেলে এ-কার হৈলেও বল্‌তে গেলে ‘জ্যামোন’ বলা হয়। এইভাবে অনেক এ-কারের বদোলে আমরা অ্যা-কার দিয়া লিখ্‌তে পারি। এইটা কীন্‌তু ‘য’-ফলায় আ-কার না, এইটা ‘অ্যা’-কার। শোজাবাংলায় ‘য’ হরোফ্‌টাই নাই আশোলে, তাই ‘য’-ফলাও নাই। শোজা বাংলায় ‘য’ আশোলে ‘জ’ এর্‌ই আরেক্‌টা চেহারা।

শোজা বাংলা বানানের ২য় জায়গা হৈলো, যুক্‌তো–হরোফ। আম্‌রা যুক্‌তো হরোফ রাখ্‌তে চাইনা। যুক্‌তো হরোফের বদোলে হরোফ ২টার মদ্‌ধে হশোন্‌তো(্) ব্যাবোহার করা হবে। যুক্‌তো হরোফ ছারাও হশোন্‌তো(্) ইউজ করা যাবে, তবে আওয়াজের শেষ হরোফে হশোন্‌তো(্) না দিলেও শমোশ্‌শা নাই। আমরা জোদিও যুক্‌তো হরোফ রাখ্‌তে চাইনা, তবে যুক্‌তো হরোফের কিছু শুবিধাও আছে। জ্যামোন, যুক্‌তো হরোফ দিয়া লিখ্‌তে গেলে হশোন্‌তো(্) ইউজ করার দর্‌কার্‌ই পরেনা খুব ১টা। তাই যারা পোথোম, বাংলা বানান শিখ্‌বে তাদের জন্‌নো শুরুতে হশোন্‌তো(্) দিয়া যুক্‌তো হরোফ ছিস্‌টেমে ল্যাখা হৈলেও তারা আরেক্‌টু পাকা হৈলে হশোন্‌তো(্) ছারাও পর্‌তে পারবে। আরবী ভাশা শুরুতে জের-জবোর দিয়া বানান কৈরা শিখা হৈলেও এক্‌টু পাকা হৈলে জ্যামোন জের-জবোর লাগে না, শেই রকোম অনেক্‌টা। অ্যাখোন থেইকা তাই এর পরের ল্যাখা-গুলা হশোন্‌তো(্) ছারা যুক্তাক্ষর দিয়াও ল্যাখা হবে। ইস্কুল-কলেজে পরা শবাই যুক্তাক্ষর শহোই পরতে পার্বেন আশা কর-তেছি। বরোং অ্যাতোক্ষনই তাগো পর্‌তে একটু কশ্‌টো হৈছে মোনে হয়। এই কশ্‌টো যুক্তাক্ষর দিয়াও ল্যাখা যাইতো, কিন্তু শমোশ্‌শা হৈলো, ইউনিকোড ছিস্টেমে শ ও ট এর ভিতর শরাশরি যুক্তাক্ষর দ্যাওয়া যায়না আপাততো, যেহেতু পোমিতো বাংলার নিওমের বাইরে কিছু করার উপায় ছিলোনা তাগো। তাই, বিশেশ দরকারে আপাততো ‘ষ’ হরোফটাও আমরা ইউজ করতে চাই। তাই শোজা বাংলায় কশ্‌টো ও কষ্টো ২টাই জায়েজ, কষ্‌টোও জায়েজ। মানে ‘শ’ আর ‘ষ’ ১ই হরোফের ২টা চেহারা হিশাবে গোনা হবে, কিন্তু ‘স’ আলাদা হরোফ, যার আওয়াজ আলাদা। রাশ্‌তা, রাস্‌তা ও রাছ্‌তার আওয়াজে কিছু ফারাক আছে। শেই ফারাক্‌টা রাখার জন্নোই ‘স’ আলাদা ১টা হরোফ। যাই হৌক, ১ই নিওমে ‘য’ হরোফ্‌টারেও আমরা রাইখা দিতে চাই। আশোলে ‘জ’ এরই আলাদা ১টা চেহারা হিশাবে ‘য’ ব্যাবোহার করা যাবে, এর বেশি কিছু না। মানে ‘জাওয়া’ ও ‘যাওয়া’ ২টাই জায়েজ-জায়েয-যায়েজ-যায়েয শোজা বাংলায়, তবে ‘জ’ দিয়া ল্যাখারে বেশি দাম দ্যাওয়া হবে। শোজা বাংলায় বানান করার নিওম এইটুকুই আপাততো। এরপর থেইকা যা আশবে, খেয়াল করলে পাইবেন যে, শোজা বাংলার বানানও ইস্কুল-কলেজে শিখাইন্না বানানের মতোই পেরায়, কিন্তু শব্দোগুলা একটু আলাদা ও ল্যাখাগুলার আওয়াজ(উচ্চারন) পুরাই মুখে যেইভাবে বলা হয় শেই রকোম।

২। ২য় হৈলো শোজা বাংলার শব্দো বাছাই। এইটাই শব চাইয়া বেশি দরকার। দরকারের বদোলে ‘প্রয়োজন’ ল্যাখা হৈবেনা। বদোলের বদোলে ‘পরিবর্তে’ হবে না। ইংরাজগো বানাইন্না কলকাতার পোমিতো বাংলায় শব্দোগুলা ‘তৎসম/অর্ধ-তৎসম/তদ্ভব’, দেশি আর বিদেশি এই ৫-ভাগে ভাগ করা হৈলেও ‘তৎসম/অর্ধতৎসম/ তদ্ভব’ শব্দও আমাগো হিশাবে বিদেশী শব্দো, কারোন ‘তৎসম’ মানে ‘তার শমান’, কার শমান? শঙোস্কিরিতো! কিন্তু শঙোস্কিরিতো থেইকাতো বাংলাভাশা আশে নাই। তাই ‘চিকিৎসালয়’ জ্যামোন দেশি শব্দো না, ইংলিশ ‘হস্পিটাল’ থেইকা আশা হাশপাতালও শোজা বাংলার হিশাবে বিদেশি শব্দো না। আদী দেশী শব্দোর পাশাপাশি হাশপাতাল, ডাক্তার, উকীল, বন্দুক, পুলিশ এইগুলাও বিদেশী শব্দো না। জদি এইগুলারে বিদেশী শব্দো থেইকা আশছে বলা হয় তাতেও শমোশ্‌শা নাই, কিন্তু তখোন ‘তৎসম/অর্ধ-তৎসম/তদ্ভব’ শব্দোও বিদেশী কারোন তা শঙোস্কিরিতো থেইকা আশছে। শঙোস্কিরিতো থেইকা আশা ‘পরিষ্কার করার’ বদোলে আমরা আগে থেইকাই চালু থাকা ফার্ছীজাত ‘ছাফ করা’ ব্যাবোহার করবো, এবোংকি বেশি চাপাচাপি করলে ইংরাজি থেইকা আশা ‘কিলিয়ার’ ইউজ করবো। ‘তৎসম-অর্ধতৎসম-তদ্ভব’ আর দেশি-বিদেশি বৈলা কিছু নাই আমাগো কাছে। আমাদের দ্যাখার বিষয় কোনটা আগে থেইকাই বাংলা ভাশায় চালু ছিলো, অ্যাখোনো আছে কিংবা আদী বাংলা ভাশার নিজের নিওমেই নোতুন নোতুন যে শব্দোগুলা আমাদের মুখের ভাশায় ঢুইকা জাইতেছে শেই শব্দোগুলা। আর ‘তৎসম-অর্ধতৎসম/তদ্ভব’ জেই শব্দোগুলা শঙোস্কিরিতো পোন্ডিতরা জোর কৈরা বাংলা ভাশায় ঢুকাইছে শেইগুলা বাদ দ্যাওয়া। ম্যালা-দিনের জোরাজুরির চাপে বাদ্ধো হৈয়া ম্যালা ‘তৎসম/অর্ধতৎসম/তদ্ভব’ শব্দো মানুশের মুখের ভাশায় ঢুইকা গেছে, আমরা তা বাদ দিতে চাইনা, কিন্তু শেইগুলারে ‘তৎসম/ অর্ধ-তৎসম/তদ্ভব’ এই রকোম কোনো আলাদা মর্যাদা দিতে চাইনা। শেইগুলাও থাকবে, কিন্তু এইগুলার দাম থাকবে শব চাইয়া কম। ‘মূল্য’ আর ‘দাম’ ২টাই দেশি বাংলা শব্দো হিশাবেই থাকবে শোজা বাংলায়, তবে ‘মূল্য’-এর বদোলে ‘দাম’ বেশি দামী হৈবে শোজা বাংলায়। আশা করতেছি বুঝাইতে পারা গেছে। কিন্তু শোজা বাংলার পুরা ১টা ডিক্‌শোনারী না থাকলে কাজ-কাম করা কোঠিন, তাই এই কামটা খুব তারাতারিই কৈরা ফালাইতে পারবো আমরা ইংশাল্লা।

৩। ৩নাম্বার হৈলো, শব্দো দিয়া লাইন বান্ধা, কল্‌কাতার পো(র)মিতো বাংলায় যারে বাক্কো গঠোন বলে। এইটা কিন্তু শবচাইয়া শোজা, কিন্তু এইটাই বেশি লাগে কথা কৈতে গেলে। এইটা শোজা, কারোন শামান্নো কয়েকটা নিওম জানলেই হয়। জ্যামোন ধরেন, পোমিতো ‘আমি ভাত খেয়েছিলাম’ শোজা বাংলায় হবে ‘আমি ভাত খাইছিলাম’, ‘আমি ভাত খাচ্ছিলাম’ শোজা বাংলায় হবে ‘আমি ভাত খাইতেছিলাম’ এই রকোম। এইবার নীচের তালিকাটা দ্যাখেন,

পো(র)মিতো বাংলাশোজা বাংলা
আমি চিঠি লিখেছিলাম।আমি চিঠি লিখছিলাম।
আমি চিঠি লিখছিলামআমি চিঠি লিখতেছিলাম
আমি চিঠি লেখিআমি চিঠি লিখি
আমি চিঠি লিখছিআমি চিঠি লিখতেছি
আমি চিঠি লিখেছিআমি চিঠি লেখছি
আমি চিঠি লিখবোআমি চিঠি লিখবো
আমি চিঠি লিখতে থাকবআমি চিঠি লেখতে থাকবো
আমি চিঠি লিখিনিআমি চিঠি লিখি নাই
আপনি ভাল থাকুনআপনে ভালো থাকেন


এই মোটামুটি শোজা বাংলায় বাক্কো বান্ধার ছিস্টেম। তবে আরো একটু বিস্তারিতো দ্যাওয়া হৈবে যে ডিকশোনারীটা বানাইন্না হবে শেইটার মদ্ধে। তার আগে যতোটা পারা যায় bcmr.xyz এ আরো ম্যালা ধরোনের ল্যাখা শোজা বাংলায় ল্যাখার কোশেশ করা হৈতে থাকবে, যেইগুলা পরতে পরতে বাকি শবকিছুও পানির মতো শোজা হৈয়া জাইবে আশা করতেছি। তবে খালি শোজা বানাইন্নাই শোজা বাংলার কাম না, তার চাইতেও বেশি কামের কাম হৈলো শোজা বাংলার মাদ্ধোমে গেয়ানে শাধিনতা নিয়া আশা যেইটা বান্ধা পৈরা আছে ইংরাজ্‌গো বানাইন্না কলকাতার পোরমিতো বাংলার জালের ভিতর। শব ধরোনের ল্যাখা এই ভাশাতে লিখতে পারার মাদ্ধোমে আম বাঙালীর শবাইরে গেয়ান-বুদ্ধির হিশাবে শাধিন করাই শোজা বাংলার আশোল মাক্‌ছাদ। এইবার চলেন এই ভাষায় আমাগো ৩১ দফা ইশতেহারটা পৈরা দেখি।

One response to “শোজা বাংলা কী?”

  1. শবাই জার জার পরামিশ কমেন কৈরা শোজাবাংলারে আউগাইয়া দেন মেহেরবানী কৈরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নোতুন ল্যাখা:

  • চাশা-মোজুরের ৩১ দফা

    পরোম পোর্‌ভুর নামে শুরু এইটা রাষ্টের শবার জন্নো যায় এইরকোম… বিশদ

  • শোজা বাংলা কী?

    আগেই জানাইয়া রাখি, এই ল্যাখা পর্‌তে ‘শিক্‌খিতো’ ভাই-বোন্‌গো কাছে শুরুতে… বিশদ

নোতুন কমেন: